উত্তরদিনাজপুর

অনুন্নয়নের জন্য ভোট বয়কটের হুমকি দিল উত্তর দিনাজপুর জেলার রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিংপাড়ার গ্রামবাসীরা

গ্রামে নেই চলাচল যোগ্য রাস্তা, নেই ১০০ দিনের কাজ, নেই পানীয় জলের সু-ব্যবস্থা, বাংলা আবাসের ঘর সহ চাহিদা পূরণের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা টুকুও নেই এই গ্রামে। যদিওভোট আসতেই রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের ঢালাও প্রতিশ্রুতি মিললেও আসলে কাজ করে দেখাননি কেউই। ফলে এবার আগে কাজ, পরে ভোট। তাই সকল গ্রামবাসীদের মিলিত সিদ্ধান্তে ভোট বয়কটের ডাক দিল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের ৬ নং রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারাজা হাট এলাকার সিংপাড়া গ্রাম। ইতিমধ্যেই গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় "অনুন্নয়নের জন্য ভোট বয়কট" লেখা পোস্টার টাঙিয়ে এই ঘোষণা করেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের কাছেই তাঁদের কোনও গুরুত্ব নেই। তাই কারোর নজরও নেই এই গ্রামের গরীব মানুষদের দিকে। ফলে উন্নয়ন শব্দের মানে তাঁদের কাছে এক অজানা শব্দ। স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিস থেকে হাট বাজার এমনকি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য মাটির রাস্তাটুকুও নেই। গ্রামের মানুষদের চলাফেরা করতে হয় অন্যের জায়গার উপর দিয়ে। ফলে ওই জায়গার মালিক কোনও দিন চলাফেরা করার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে বাড়ির বাইরে বেরোনো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে সকলের। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সমস্যার কথা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতিতে একাধিকবার জানানোর পরেও কোনও সুরাহা হয়নি।

        এবিষয়ে পারুল সিং সহ গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রামে রাস্তা ঘাট নেই, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা। গ্রামের মানুষ একশো দিনের কাজ থেকে বঞ্চিত। বসবাসযোগ্যহীন ঘরবাড়ি হলেও বাংলা আবাস যোজনার একটি ঘরও তারা পায়নি। প্রত্যেক নির্বাচনের সময় প্রচারে এসে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু ভোট মিটতেই আর দেখা মেলেনা কারোর। তাই জোটবদ্ধ হয়ে ভোট বয়কটে সামিল হয়েছেন তাঁরা।

        এই বিষয়ে ৬ নং রামপুর গ্রামপঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান অঞ্জলি সরকার অনুন্নয়নের সমস্ত দায়ভার চাপিয়েছেন বিগত পঞ্চায়েত বোর্ডের উপর। তিনি জানিয়েছেন, সবে মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে তাঁরই বাড়ি লাগোয়া সিংপাড়া গ্রামের রাস্তার সমস্যা সমাধান করতে পারেননি তিনি।